জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন এক নয়া ‘মিডিয়া পলিসি’ প্রকাশ করেছে। যার উদ্দেশ্য হল, উপত্যকার সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারী নিয়ন্ত্রণের জোয়াল আরও জবরদস্তি চাপিয়ে দেওয়া। ফলে কী প্রচার করা যাবে আর কী যাবে না তা বিচারের চূড়ান্ত ক্ষমতা থাকবে সরকারী প্রশাসনের হাতে। বাহানা হল ‘ভূয়ো-ভ্রান্ত-অনৈতিক-জাতীয় স্বার্থ বিরোধী-দেশ বিরোধী’ সংবাদ প্রচার রোধ করা, কার্যত নিশানা হল সংবাদ পরিবেশনের স্বাধীনতা হরণ করা। সরকারের ছকে দেওয়া মাপকাঠিতে বিধিসম্মত প্রমাণ দিতে না পারলে সেই সংবাদ প্রচার আটকে দেওয়া হবে। সরকারী প্রশাসন দোষী মনে করলে খবর তৈরি করা সাংবাদিক, সংশ্লিষ্ট সংবাদ মাধ্যমের প্রধান কার্যকর্তা, প্রকাশক ও মালিকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে দেশের নিরাপত্তাভঙ্গের অভিযোগে গ্রেপ্তার, ফৌজদারী বা দেশদ্রোহী মামলা পর্যন্ত দায়ের করার ক্ষমতা প্রয়োগ করবে।
মোদী সরকার দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় এসে প্রথম কোপটা মারে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বাধীন ভারতে সংযুক্তি ও স্বায়ত্ততার বিশেষ অধিকারের সেতুবন্ধন স্বরূপ সংবিধানের ৩৭০ ধারার ওপর। উত্তরের ঐ সীমান্ত ভূখন্ডের বিশেষ রাজ্যের মর্যাদা তো বটেই, এমনকি রাজ্যের মর্যাদারও বিলোপ ঘটিয়ে রাজ্যটাকে বিখন্ড করে রূপান্তরিত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। শুধু তাই নয়, সংবাদ জগৎ ও অন্তর্জাল পরিষেবা থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়ে পরিণত করে বধ্যভূমিতে। তারপর থেকে একদিকে যেমন নয়-দশমাস একভাবে ঐ অঘোষিত জরুরি অবস্থার শাসন চলেছে, তেমনি অন্যদিকে তার পরিবর্তনের দাবিতে দেশ জুড়ে উঠেছে প্রতিবাদ। ফলস্বরূপ, কেন্দ্র বাধ্য হয়েছিল সংবাদ জগত ও অন্তর্জাল পরিষেবার সাথে সংযোগ স্থাপনের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। করোনা আক্রান্ত পরিস্থিতিতে তেমনভাবেই চলছিল। কিন্তু আবার দেখা যাচ্ছে কেন্দ্র নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীর প্রশাসন সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতাকে নানা শর্তারোপের শৃঙ্খলে বেঁধে ফেলতে সক্রিয় হচ্ছে।