মন্তেস্বরে পুলিশ-টিএমসি মাফিয়া চক্রের আক্রমণ – জনগণের জীবন-জীবিকার সংগ্রাম শক্তিশালী করেই এই চক্রের মোকাবিলা করতে হবে

গত ১৯ জুন রাত্রি প্রায় একটার সময় মন্তেশ্বর ব্লকের কুলুট গ্রামের সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পার্টি সদস্য কমরেড সাহান আলি সেখকে, যিনি কুসুমগ্রাম বাজারে এক আড়ৎদারের দোকান ঘরে রাতে পাহারাদারের কাজ করেন, ....

man

গত ১৯ জুন রাত্রি প্রায় একটার সময় মন্তেশ্বর ব্লকের কুলুট গ্রামের সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের পার্টি সদস্য কমরেড সাহান আলি সেখকে, যিনি কুসুমগ্রাম বাজারে এক আড়ৎদারের দোকান ঘরে রাতে পাহারাদারের কাজ করেন, মন্তেশ্বর থানার পুলিশ ঘুম থেকে তুলে নিয়ে যায়। এমনকি তার নিয়োগকর্তাকে জানিয়ে যাওয়ার সুযোগও তাঁকে দেওয়া হয় না। কাউকেই জানানো হল না। সকালে তাকে ঘরে দেখতে না পেয়ে সবাই খোঁজখবর করে। শেষে থানায় জানাতে গিয়ে দেখা যায় সে থানায় আছে। কেন গ্রেফতার করা হয়েছে জানতে চাইলে বারবার বলা হয় বড়বাবু জানেন। আর, বড়বাবুকে ফোন করলে তিনি বলেন, তিনি জানেন না, খোঁজ নিয়ে পরে বলবেন। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের রাজ্য কমিটির সদস্য তথা মন্তেশ্বর ব্লকের নেতা আনসারুল আমান মন্ডল ও বর্ধমানে কর্মরত আরেক রাজ্য নেতা সজল পাল সাহানের সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে বড়বাবু দেখা করতে দিলেন না। ডিউটি অফিসারের মাধ্যমেই জানালেন – পরে জানাবেন। ২০ জুন রাত প্রায় এগারোটার সময় বলেন, পরের দিন জানাবেন। এসডিপিওকে জানানো হল। ‘বড়বাবু’কে পার্টির জেলা সম্পাদক ফোন করেন। বারবার ফোন করার পরও গ্রেফতারের কারণ জানা যায় না। পরদিন, ২১ জুন সকাল ১১টার সময় একজন সিভিক পুলিশ মারফত আনসারুল আমান মন্ডলকে দেখা করার জন্য খবর পাঠায় থানা। দেখা করতে গেলে সঙ্গে আর কাউকেই নিতে দিলেন না ‘বড়বাবু’। থানা অফিসে এক ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড় করিয়ে রেখে একের পর এক আমাদের সংগঠনের বিভিন্ন কর্মসূচী ও কার্যকলাপকে তুলে ধরে সেগুলিকে বেআইনি ও অপরাধমূলক আখ্যায়িত করতে শুরু করেন এবং বিভিন্ন ধরনের ভিডিও ও ভয়েস রেকর্ড হাজির করলেন। তারপর বসতে বললেন। কার্যত বলতে চাইলেন – আনসারুল আমন মন্ডল শাসক পার্টির ত্রাস। অনেক যুক্তি তর্কের পর সাহান আলি সেখকে রাত আটটার সময় ছেড়ে দেওয়া হবে বললেন। কিন্ত আনসারুল আমান মন্ডলের হাতে দেওয়া হবে না। পুলিশ বাড়িতে গিয়ে দিয়ে আসবে। কিন্ত রাত আটটার পর তৃণমূলের লোকদের হাতে সাহান আলি সেখকে তুলে দেওয়া হল। থানা থেকে বেরিয়ে সাহান আলি সেখ তৃণমূলের মোটর সাইকেলে উঠতে রাজি হয় না। সেতার আড়ৎদার মালিকের গাড়িতে করে বাড়ি আসে।

আসলে মন্তেশ্বর থানায় তৃণমূল মাফিয়ারাজ তৈরি করেছে। মানুষের বিভিন্ন সমস্যায় পার্টি অফিসে বসে বিচারের বা মিমাংসার নামে লক্ষ লক্ষ টাকার জরিমানা আদায় করা, তোলাবাজি, সরকারী অর্থ নয়ছয়, মস্তানি আর কেউ বিরোধিতা করলে প্রশাসনকে কাজে লাগিয়ে মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে পাঠানো — এলাকায়  প্রচার আছে ‘গ্যাঁজা কেস দিয়ে জব্দ করে দেওয়া হবে’। সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের কর্মীদের বিরুদ্ধেও দীর্ঘ দিন থেকে তৃণমূলের নেতারা আক্রমণ নামিয়ে চলেছেন। জনে জনে ভয় দেখানো হুমকি ও ব্যক্তিগত ব্যাপারে বিভিন্ন অজুহাতে জব্দ করার চেষ্টা সব সময়ই করে চলেছে। এই লকডাউন পরিস্থিতিতে সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের বিভিন্ন কর্মসূচী, বিশেষ করে পরিযায়ী শ্রমিকদের বিভিন্ন রাজ্যে সহযোগিতার ব্যবস্থা এবং এলাকায় ফিরে আসার পর তাঁদের দাবি নিয়ে আন্দোলনের ফলে ভালো সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিক সংগঠনের পতাকার তলায় জমায়েত হওয়ায় তা টিএমসি-র মাথা ব্যথার কারণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে গত ১২ জুন ও ১৬ জুনের কুসুমগ্রাম বাজারে লাঠি হাতে লাল ঝাণ্ডার মিছিল টিএমসি-র আতঙ্কের কারণ হয়ে ওঠে। তাই সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের কর্মীকে এভাবে বেআইনি পথে গ্রেফতার করে আটকে রাখল থানা। সমস্ত প্রতিক্রিয়াশীল অত্যাচারী শাসকরাই লাল ঝাণ্ডা দেখে ভয় পায়। তাই জনগণের জীবন-জীবিকার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার মাধ্যমেই শাসক শ্রেণীর আক্রমণকে মোকাবিলা করতে হবে।

- সজল পাল  

Published on 03 July, 2020