আক্রান্ত সংবিধান-গণতন্ত্র-যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো : কাশ্মীর ও সংবিধান নিয়ে বিপজ্জনক খেলা বন্ধ কর

সম্পূর্ণ চক্রান্তমূলক কায়দায়,অগণতান্ত্রিক-অনৈতিক ও বেআইনিভাবে বিজেপি কাশ্মীরে তার ফ্যাসিবাদী আগ্রাসন চাপিয়ে দিয়েছে।

আজ যদি আমরা এটাকে কাশ্মীরের বিষয় বলে চুপ করে থাকি তাহলে আগামীতে এ ধরনের হামলা আমার আপনার সবার উপর নেমে আসবে।
তাই সমগ্র দেশের স্বার্থে দেশের ঐক্য অখণ্ডতা শান্তি ও সৌহার্দ্য রক্ষার জন্য আসুন, আমরা এক সুরে আওয়াজ তুলি –

  • ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল করো
  • কাশ্মীরের সমস্ত বিরোধী নেতাদের মুক্ত করো
  • কাশ্মীর ও সংবিধান নিয়ে বিপজ্জনক খেলা বন্ধ করো

৩৭০ ধারা নাকচ করে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা এবং জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে লাদাখ ও জম্মু-কাশ্মীর এই দুটি কেন্দ্র শাসিত অঞ্চলে বিভাজিত করা ভারতীয় সংবিধানে অন্তর্ঘাত চালানো ছাড়া আর কিছু নয়। স্বভাবসিদ্ধ লুকোছাপা, ষড়যন্ত্র ও অবৈধ পথে মোদি সরকার কাশ্মীরের সাথে বাকি ভারতের সাংবিধানিক ও ঐতিহাসিক যোগসূত্রকে ধ্বংস করছে।  

এই অন্তর্ঘাতের প্রস্তুতি হিসেবে মোদি সরকার গত সপ্তাহ জুড়ে কাশ্মীরকে অন্তরীণ করে ফেলেছে। ৩৫,০০০ অতিরিক্ত সেনা নিয়োগ করে কাশ্মীরে কার্যত সামরিক শাসন চাপিয়ে দিয়েছে। সংবিধান অনুসারে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা সংক্রান্ত কোনও পরিবর্তন রাজ্য বিধানসভার সম্মতি ব্যতিরেকে করা সম্ভব নয়। ২০১৮ সালে জম্মু ও কাশ্মীর বিধানসভা বেআইনিভাবে ভেঙে দেওয়া হয় কোনও পক্ষকেই সরকার গড়ার কোনও রকম সুযোগ না দিয়ে। এরপর কেন্দ্রীয় সরকার  জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্য বিধানসভা নির্বাচন ও লোকসভা নির্বাচন সংঘটিত করা এড়িয়ে যায়। সুতরাং একথা স্পষ্ট যে রাষ্ট্রপতির আদেশনামা আসলে এক অন্তর্ঘাত। বিহার, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ প্রভৃতি রাজ্য ভাগ করা হয়েছিলো জনগণের আন্দোলনের চাপে এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের সাথে আলোচনার মাধ্যমে। অথচ কাশ্মীরে সেটা উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া হলো। গভর্ণরের মতামতকেই কাশ্মীরের মানুষের মত বলে গণ্য করা হলো।

কাশ্মীরী জনগণ পাকিস্তানের পরিবর্তে ভারতকে বেছে নিয়েছিলো, কারণ তারা আশা করেছিলো যে ভারত এক ধর্মনিরপেক্ষ ও গণতান্ত্রিক দেশ হিসাবে তাদের নিজস্ব পরিচিতির পূর্ণ সাংবিধানিক অধিকার সুনিশ্চিত করবে। ৩৭০ ধারা তুলে দিয়ে তাঁদের সুরক্ষা, বিশ্বাস ও প্রতিশ্রুতির প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করা হলো।

নোটবন্দী দেশে দুর্নীতি ও অবৈধ টাকার সমস্যা দূর করেনি - বরং তা দুর্নীতিকে আরও সুবিধা করে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনে আরও দুর্ভোগ ডেকে এনেছে। এটা ছিল একটা অর্থনৈতিক জুয়াখেলা। একইভাবে জম্মু ও কাশ্মীর সংক্রান্ত এইসব অত্যাচার ও ষড়যন্ত্রমূলক সিদ্ধান্তগুলি নেওয়া হল এমন সময়ে যখন সে রাজ্যে কোনও নির্বাচিত সরকার নেই। এপথে কাশ্মীর সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি হবে না। বরং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে। আরও তীব্র সেনা আধিপত্য ও বিরোধী দলগুলির ওপর দমন কাশ্মীরের জনতাকে আরও বিচ্ছিন্ন করবে। তাছাড়া, এই অন্তর্ঘাত কেবল কাশ্মীরের পরিস্থিতিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে না, এটা সংবিধানের ওপরেই আক্রমণ এবং তা সমগ্র ভারতকেই ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এটা একটা বিপজ্জনক রাজনৈতিক জুয়াখেলা।

জম্মু ও কাশ্মীরে এই উদ্যোগ এবং নাগরিকত্ব আইনে সংশোধনী ও এনআরসি – বিজেপি দেশকে ১৯৪০-এর দশকের মতো অস্থিরতার দিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। জম্মু ও কাশ্মীরকে কার্যত জরুরি অবস্থার মধ্যে ফেলে দেওয়া হল – ভারতকে জেগে উঠতে হবে, প্রতিরোধ গড়তে হবে। কারণ এই জরুরি অবস্থা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়বে গোটা দেশে।

এই সংকটকালে সিপিআই(এমএল) কাশ্মীরের জনতার পাশে দাঁড়াচ্ছে। সংবিধানে অন্তর্ঘাতের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে প্রতিবাদ ও সতর্কতার ডাক দিচ্ছে। কাশ্মীরে জবরদখল অবিলম্বে বন্ধ করা, ৩৭০ ও ৩৫এ ধারা পুনর্বহাল করা ও বিরোধী দলগুলির নেতাদের মুক্ত করার দাবি জানাচ্ছে।

সিপিআই(এমএল), পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য কমিটি

Published on 07 August, 2019