কমরেড অভি হালদার

কলকাতার বেহালা অঞ্চলের একজন দীর্ঘদিনের পরিচিত কমরেড অভি হালদার গত ২৬ ফেব্রুয়ারী প্রয়াত হয়েছেন। বয়স হয়েছিল ষাটের ওপর। অভি ছিলেন মিষ্টি স্বভাবের এবং খুবই মিশুকে। সত্তর দশকে তরুণ বয়স থেকে বিপ্লবী ভাবধারার প্রতি তাঁর একটা টান গড়ে উঠেছিল। তার বিশেষ উৎসটা ছিল ওর পরিচিত চারপাশের এলাকায় এবং বাড়িতেও। ঐ এলাকায় তখন ঘর ছেড়ে ছাত্র-যুবদের বেরিয়ে বিপ্লবী আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়ার একটা ঢল নেমেছিল, অভি নিজের দাদাকেও দেখেছিলেন এই আন্দোলন করতে গিয়ে প্রায় ছয়-সাত বছর কারারুদ্ধ থাকতে। জেলখানায় দাদাকে দেখতে যাওয়ার পাশাপাশি চলতে ফিরতে ঘটনাক্রমে বাইরেকার কিছু বিপ্লবী বন্ধুর সাথে পরিচয় হয়ে যায়। তারপর বন্দীমুক্তি আন্দোলন, বেহালা থেকে গোলপার্কে ‘দিলীপদা’ ও আরও সব বন্ধুদের সাথে মেলামেশা এবং নিজের বাড়িকে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পূবের আওয়াজ’ জন্ম নেওয়ার আঁতুরঘর করতে দেওয়া, জীবিকার জন্য  দোকানে দোকানে চা-পাতা সাপ্লাই আর জীবনের জন্য পার্টি ও কালচারাল ফ্রন্টের পেছনে ছুটতে ছুটতে অভি হয়ে উঠেছিলেন বহুজনের আপনজন। অভি সম্পর্কে এই ছবিটাই সবার মনে স্পষ্ট ধরা আছে। পরবর্তী সময়ের ছবি হয়ে গেছে ধূসর। যে দীর্ঘ বিচ্ছিন্নতা ও দূরত্ব তৈরি হয় সেটা ছিল অনভিপ্রেত এবং বেদনাদায়ক। কমরেডের অসময়ে প্রয়াণ ব্যাথাতুর করে তোলে। কমরেড অভি হালদার লাল সেলাম।

Published on 14 March, 2020