যাদবপুরে ফ্যাসিবাদের ঠাঁই ছিলনা, ঠাঁই নেই

গেরুয়া সাম্প্রদায়িক ফ্যাসিবাদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে সবসময়ই প্রথম সারিতে থাকে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো প্রগতিশীল বিপ্লবী সংস্কৃতির কেন্দ্র। বারেবারে আরএসএস, বিজেপি নানা ছলেবলে কৌশলে কখনও নেতা-মন্ত্রীদের ক্ষমতার অপব্যবহার করে কখনও গুণ্ডাবাহিনীর পেশীশক্তি দিয়ে ক্যাম্পাস দখলের চেষ্টা করেছে। রূপা গাঙ্গুলী থেকে বাবুল সুপ্রিয় কেউ এই চেষ্টায় কমতি রাখেনি। এমতাবস্থায় এবার যাদবপুরের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে লড়াইয়ের অভিমুখ ছিল মূলত ফ্যাসিবাদ বিরোধী। আইসা সহ বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি বিভিন্ন সময়ে কখনও ঐক্যবদ্ধ আবার কখনও পৃথকভাবে ক্যাম্পাসে সরব হয়েছে উগ্র হিন্দুত্ববাদ বা এনআরসি-এনপিআর-সিএএ-র বিরুদ্ধে। লিঙ্গ সংবেদনশীলতার লক্ষ্যে ‘জেন্ডার সেন্সিটাইজেশন সেল ফর অ্যাকশান এগেইনস্ট সেক্সুয়াল হ্যারাসমেন্ট’ গঠন, দলিতদের অধিকার সুরক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ‘রোহিত অ্যাক্ট’ চালু করা, ল্যাঙ্গুয়েজ সেল গঠন সহ বিভিন্ন racical দাবিতে সরব ছিল আইসা। এবিভিপি প্রথমবার নিজের নামে যাদবপুরের নির্বাচনে এবার অংশগ্রহণ করে। গত নির্বাচনে এনএসএফ নামের আড়ালে ভোটে লড়ে তারা যা ভোট পেয়েছিল এবার তার থেকেও শতাধিক ভোট তারা কম পেয়েছে। কলা বিভাগের ছাত্রসংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়েছে এসএফআই-পিএসইউ জোট। এই বিভাগের ছয়টি ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ (সি আর) পদে জয়ী হয়েছেন আইসার প্রার্থীরা। বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগেও ছাত্র সংসদের ক্ষমতা দখলে রেখেছে অন্য দুটি প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক সংগঠন।

Published on 29 February, 2020