সেই ২০১৭ থেকে রাজ্য সরকারের গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ডের ওয়েটিং লিস্ট তালিকাভুক্ত চাকরি প্রার্থীরা বঞ্চিত, এমনটাই অভিযোগ শ্রী আশিষ খামরুইয়ের, যিনি এঁদের অন্যতম মুখপাত্র। ২০১৬ সালের নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলো যে ৬০,০০০ গ্রুপ-ডি কর্মী আগামি পাঁচ বছরে নিয়োগ করা হবে। ২০১৭ সালে ৬,০০০ কর্মী নিয়োগের নোটিফিকেশন জারি হয়। সেই বছরই ২০ মে ১৯ লক্ষ প্রার্থী পরীক্ষায় বসে। সেপ্টেম্বর মাসে ফলাফল জানা যায় এবং প্রায় ১৮,০০০ জনকে সাক্ষাৎকারের জন্য ডাকা হয়। যথেষ্ট যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ার কারণে ২০১৮-র এপ্রিল মাসে আরও ১,২০০ জনের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। ঐ বছরের আগস্ট মাসে মেরিট লিস্টে ৫,৩৮০ জনের নাম প্রকাশিত হয়। কিছুদিন পরে দ্বিতীয় তালিকায় আরও কিছু নাম যোগ হয় এবং মোট ৫,৪২২ প্রার্থী চাকরি পায়, বাকি ৫৭৮ পদ খালি থাকে। একটি ওয়েটিং লিস্ট তৈরি হয় তাতে কতজনের নাম আছে তা নিয়ে বিভ্রান্তি আছে। শ্রী খামরুইয়ের মতে সংখ্যাটি ১,২০০র কাছাকাছি। এই অপেক্ষামান প্রার্থীরা তালিকায় তাঁদের ক্রমিক নম্বর জানতে চান, কিন্তু সেক্ষেত্রেও কোনো সদুত্তর পাওয়া যায় না। এখন অবধি অপেক্ষামান প্রার্থীর তালিকা এবং তাঁদের ক্রমিক নম্বর প্রকাশে সরকারের দিক থেকে স্বচ্ছতার অভাব দেখা গেছে। এই কারণে গত চার বছর ধরে এই প্রার্থীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
একটি স্বচ্ছ ওয়েটিং লিস্ট প্রকাশ করে খালি পদগুলি ভরাট করার জন্য তাঁরা স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রীর বাড়ি গিয়ে ডেপুটেশন দিয়েছেন। ৮ জুলাই ২০১৯ তাঁরা রেড রোডে অবস্থান করেছেন, তিনদিন বাদে মৌন মিছিল করেছেন। সম্প্রতি গোলপার্কের সামনে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ করেছেন। তাঁরা এই সমস্যা নিয়ে RTI করেছেন কিন্তু সেটির কোনো জবাব তাঁরা আজ অবধি পাননি। এই প্রার্থীরা সরকারি লালফিতে এবং দীর্ঘসূত্রতার শিকার। এঁদের নিয়োগের ব্যাপারে সরকারের দুটি বিভাগ P&AR (পারসোন্যাল এন্ড অ্যাডমিনিট্রেটিভ রিফর্মস) এবং গ্রুপ-ডি রিক্রুটমেন্ট বোর্ড একে অন্যের দিকে দায়িত্ব ঠেলে দিয়েছে। নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্য সরকারের কাছে তাঁদের আন্তরিক আবেদন যেন ৫৭৮টি শূন্য পদের জন্য অবিলম্বে নিয়োগ করা হয়। তাঁরা আশা করছেন শিক্ষকদের ক্ষেত্রে যেমন এক্সটেন্ডেড ভ্যাকেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ করা হয়, তাঁদেরকেও এই সুবিধা প্রদান করা হবে। তাঁরা আশাবাদী যে সরকার এই ব্যাপারে অবিলম্বে সদর্থক পদক্ষেপ নেবে।
- সোমনাথ গুহ