১) আচ্ছা, সরকারি হাসপাতালে রোগি ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না, এটা আমরা লক্ষ্য করছি কি! কিন্তু কেন?
জরুরি বিভাগ খোলা। ওপিডি খোলা। ডাক্তাররা রুগিও দেখছেন। কিন্তু ইন্ডোর ফাঁকা। কিন্তু কেন?
ডাক্তার বা স্বাস্থ্যকর্মীরা পিপিই-র অভাবে নিঃসন্দেহে ভীত। রোগিদেরও পিপিইর সরবরাহ করা প্রয়োজন। “কোভিড ১৯” বলে কয়েকটি হাসপাতাল চিহ্নিত হয়েছে। তেমনি “শুধুমাত্র এমার্জেন্সি রোগের জন্য” বলে ঘোষণা করা উচিৎ নয় কি!
অজস্র অসহায় মানুষ গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে হাসপাতালে হাসপাতালে ছুটে বেড়াচ্ছেন। হার্ট অ্যাটাক, হার্টব্লক, তীব্র শ্বাসকষ্ট, সুগার ফল করা, লাগাতার খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া, ডায়ারিয়া থেকে ডিহাইড্রেশন, রক্তবমি বা রক্ত কাশি, ক্যান্সারের জরুরি অপরেশন বা কেমো বা রেডিয়েশন , হাড় ভাঙা, হেডইনজুরি, নানারকম অ্যাক্সিডেন্ট, আত্মহত্যার চেষ্টা,জলে ডুবে যাওয়া, সাপের কামড়, থ্যালাসেমিয়ায় রক্ত দেওয়া, হিমোফিলিয়ায় ফ্যাটর দেওয়া, এমারজেন্সি অপরেশন .... এসব রোগিদের কোনো চিকিৎসা হবে না!
বেসরকারি হাসপাতালেরও একই অবস্থা। তারা আবার গেটের মুখেই জ্বর আক্রান্তদের ভাগিয়ে দিচ্ছে। অথচ অফিসিয়ালি সব খোলা রেখেছে।
এই অবস্থায় আমাদের কী করণীয় ?
- ডাঃ বর্ণালী রায়
২) খাদ্য ও রেশন সংকট ব্যাপক আকার নিচ্ছে, সংকটের তীব্রতা বাড়ছে। আমাদের সক্রিয় ভূমিকা বাড়িয়ে তোলা ভীষণ জরুরী।
আজ (৯ এপ্রিল) পোলবা বিডিও অফিস গিয়েছিলেন রাজিয়া বিবি। স্বামী রিকশা চালক জাকির আলীর আয় বন্ধ লকডাউনে। ৫ জনের সংসার। সরকার রেশন দিয়েছে মোট ৮ কেজি চাল, ৬ কেজি আটা। ৪ জনের। কারণ ছোট মেয়ে বছর পনেরোর নাজিমার রেশন কার্ড বার বার দরখাস্ত করেও এখনো মেলেনি। নাজিমা তবে কার ভাগ থেকে খাবে!!!
রাজিয়ার ভয়ার্ত জিজ্ঞাসা, ওইটুকু রেশন তো প্রায় শেষ হয়ে এল। বাকি মাসটা খাবে কী? আর সরকার তবে মাথাপিছু ৫ কেজির কথাই বা কেন বললো! এরপর লকডাউন যদি আরো বাড়ে, তবে তো আরো বিপদ রাজিয়াদের!
বছর বাষট্টির হাসিনা বিবির বিপদও একই। ২ কেজি চাল, দেড় কেজি আটায় কিভাবে চালাবেন তিনি!
বিডিও সন্তু দাসের কাছে কোনো সদুত্তর নেই। কারণ যারা রেশন পেয়েছে, তাদের জন্য তিনি কিছুই করতে পারবেন না!
রীতা মাজি, ঝন্টু মাজিদের আবার সমস্যার চরিত্র অন্যরকম। এদের পরিবারে একটাই কার্ড – অন্ত্যোদ্যয়। হিসাব মতো পরিবার পিছু ৩৫ কেজি খাদ্য। কিন্তু এই রেশন বরাবর বৃদ্ধা শ্বাশুড়ি হরিদাসী মাজি একাই নেন। তাঁর নামেই কার্ড। এই রেশনে মাস চালান তিনি। ভিন্ন থাকেন। ছেলেদের সাথে খান না, দেন ও না। যেহেতু অন্তোদ্যয় কার্ড পরিবার ভিত্তিক, সেকারণে ছেলের পরিবার এখনো কার্ড পায়নি। এমন অসংখ্য পরিবারে এমনই ‘অন্তোদ্যয়’ সমস্যা।
এতদিন কাজ ছিল। ছেলে-বৌ দুই বাচ্চা নিয়ে যাহোক করে সামলে নিয়েছে।
এখন রেশন ছাড়া চলবে কিভাবে, ছুটোছুটি করছেন রীতা!
পোলবা- দাদপুরের ৪/৫টা মাত্র গরিব পাড়ায় কৃষি ও গ্রামীন মজুর সমিতি (আয়ারলা) এবং আদিবাসী অধিকার ও বিকাশ মঞ্চের কমরেডরা কদিন ঘুরেই চিহ্নিত করলেন এমন তিন শতাধিক মানুষকে (ছোট-বড় মিলিয়ে) যাদের রেশনকার্ড নেই। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, যাদের কার্ড নেই, তারাও বিশেষ টোকেনে রেশন পাবে।
আমাদের কমরেডরা এদের নাম জমা দিলেন। আজ বিডিও বলছেন, যারা রেশন কার্ডের পূর্ববর্তী দুটি শিবিরে নাম জমা দিয়েছেন, তারাই কেবল বিশেষ টোকেন পাবেন কয়েক দিনের মধ্যে।
বাকিদের কী হবে?
পোলবার দনারপাড়া থেকে চাষে জল ধরানোর কাজ কোনোমতে সেরে আজ বিডিও অফিসে ছুটে এসেছিলেন কার্তিক মান্ডি। ওঁর পাড়ায় ৪/৫টি গোটা পরিবার সহ জনা ৫০-এর কোনো রেশনকার্ড নেই।
বলছিলেন, ‘সমাধান না হলে, সবাই মিলে পাড়াতেই ধর্ণায় বসবো’।
সবমিলিয়ে, অবস্থা ভালো নয়। যা রেশন মিলেছে, ২/৪ দিন পরই শেষ হবে। মুখ্যমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী কেউই কথা রাখেননি। লকডাউনকে মাথায় রেখেই ক্ষুধার বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করতে হবে। সময়োচিত উদ্যোগে এগিয়ে যেতে হবে আমাদের।
এই সর্বব্যাপী খাদ্য সংকটে আমাদের নিজেদের উদ্যোগে রিলিফের যে কাজ আমরা করে চলেছি সেই কাজ বজায় রেখেই গ্রামীণ গরিব ও মেহনতি মানুষের উঠে দাঁড়ানোর আন্দোলন এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
- সজল অধিকারী, হুগলি