উত্তরপ্রদেশে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করে সিপিআই(এমএল) লিবারেশন। যোগী সরকারের রাজত্বে আদিবাসী ও দলিতদের উপর বেড়েই চলেছে আক্রমণ। বামপন্থী কর্মী বাহিনী ও সিএএ বিরোধী প্রতিবাদীদের উপরও বাড়ছে দমনপীড়ন। এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে নানাভাবে সক্রিয় সিপিআই(এমএল), আর এই ধারায় গত ১৭ জুন কর্মসূচী নেয় রাজ্যব্যাপী প্রতিবাদের। রাজধানী লক্ষ্ণৌর চারটি অঞ্চল সহ প্রায় ২৪-২৫টি জেলায় সংগঠিত হয় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। যথারীতি শারীরিক দূরত্ব ও অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে প্রতিবাদ সরব হয় ঘর থেকে বাইরে কর্মস্থলে, পার্টি অফিস থেকে গ্রামাঞ্চলে। তার আগে মাত্র দু’সপ্তাহের মতো সময়ের মধ্যে ঘটে যাওয়া কিছু হামলার ঘটনার জবাব দিতেই পাল্টা তৎপর কর্মসূচী নেওয়া হয়।
আক্রমণের চেহারাগুলো মারাত্মক। লক্ষ্ণৌতে এক দলিত যুবককে চুরি করার অভিযোগে ধরে মাথা মুড়িয়ে গলায় জুতোর মালা পরিয়ে ঘোরানো হয়। আমরোহাতে মন্দিরে ঢোকার কারণে এক দলিত যুবককে হত্যা করা হয়। গোরখপুরের পোখরি গ্রামে দলিত পাড়ায় সামন্তী গুন্ডারা আক্রমণ চালায়। জৌনপুরে একটা দলিত মহল্লা জ্বালিয়ে দেওয়া হয়। এছাড়া দলিত, আদিবাসী, মুসলিম ও সমাজের অন্যান্য দুর্বল অংশের ওপর অত্যাচার-উৎপীড়ন লেগেই রয়েছে। সোনভদ্র জেলায় মাত্র তিন সপ্তাহের মধ্যে অন্যায়ের বিরোধিতা করায় দুজন আদিবাসীকে লুটেরা মাফিয়ারা খুন করে। লক্ষ্ণৌতে সিএএ বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের নামে ‘ওয়ান্টেড’ পোস্টার লাগাচ্ছে, পুলিশ দিয়ে ধরে ধরে মিথ্যা মামলায় ফাঁসাচ্ছে, থানা হেফাজতে বিভৎস অত্যাচার চালাচ্ছে যোগী সরকার। এরকম বহু ঘটনা ঘটে চলেছে। গণতন্ত্রের উপর এই সমস্ত আক্রমণ, নিপীড়ন ও ধ্বংসাত্মক কার্যকলাপ অবিলম্বে বন্ধ করার দাবিতে সিপিআই(এমএল) রয়েছে জনতাকে চেতনায় ও লড়াইয়ে সংগঠিত করার নিরন্তর রাস্তায়।