হাথরাসে দলিত তরুণীকে গণধর্ষণ ও হত্যার বিরুদ্ধে ৯ অক্টোবর খড়দহ অরুণাচল মোড়ে অ্যাপোয়া ও এআইআরডব্লুও-র যৌথ পথসভা হয়।
সংবিধান ও গণতন্ত্রকে নস্যাৎ করে মনুবাদী বিজেপি-আরএসএস-এর উগ্র হিন্দুত্ববাদী মতাদর্শের অনুশীলন চলছে। যে মতাদর্শ নারীবিদ্বেষী ও দলিত-সংখ্যালঘু বিদ্বেষী। তাদের দ্বিতীয় গবেষণাগার উত্তর প্রদেশে। তাই উত্তর প্রদেশ আজ নারী নির্যাতনে শীর্ষে। সেখানে উন্নাও, লখিমপুর খেরী, হাথরাস, কানপুর, মিরাট, বলরামপুরের মতো গণধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার ঘটনা পর পর ঘটেই চলেছে। কিন্তু হাথরাসের ঘটনার ভয়াবহতা কেন এত ভয়ঙ্কর? এক্ষেত্রে রাষ্ট্র দলিতকন্যা মনীষা বাল্মিকির উপর উচ্চবর্ণের অপরাধকে আড়াল করার জন্য, অপরাধীদের বাঁচানোর জন্য গোটা প্রশাসন নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। মনীষার দেহ বেওয়ারিশ লাশের মত পুলিশ পুড়িয়ে দিয়েছে। সংবাদমাধ্যম ও বিরোধীদের নির্যাতিতার পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে বাধা দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিতার পরিবারকে বয়ান পাল্টানোর জন্যে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এসেছে ‘অনার কিলিং’ ও ‘বিদেশি ষড়যন্ত্রের’ তত্ত্ব। বলা হচ্ছে ‘ধর্ষণ হয়ইনি’। সবকিছুই হচ্ছে প্রশাসনের প্রত্যক্ষ মদতে।
পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেত্রী ও সাংসদ বিচারব্যবস্থাকে নস্যাৎ করে এনকাউন্টারের কথা বলছেন। আর বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ বলেছেন ‘ধর্ষণ হয়নি’। পশ্চিমবঙ্গের মানুষকে মনুবাদের ধারক বাহক এই নারী-দলিত-সংখ্যালঘু বিদ্বেষীদের সম্পর্কে সদাসতর্ক থাকতে হবে। এখানে এদের ঠাঁই নেই। সমাজে নারীর স্বায়ত্ততা ও সমানাধিকার প্রতিষ্ঠা, লিঙ্গ বৈষম্য দূর করা ধর্ষণ রোখার মূল শর্ত।
হাথরাসের ঘটনায় দোষীদের কঠোরতম শাস্তি ও মুখ্যমন্ত্রী যোগীর পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত পথসভায় বিভিন্ন বক্তা— দীপা, শুক্লা, মৈত্রেয়ী, অর্চনা, জয়ন্তীর বক্তব্যে এটাই উঠে আসে। সঞ্চালিকা শিখা সংবাদমাধ্যমের নেতিবাচক ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন। ছাত্রী অনিন্দিতার সঙ্গে সমবেত কণ্ঠে সংগ্রামী শপথের গান ‘উই শ্যাল ওভারকাম’-এর মধ্য দিয়ে সভা শেষ হয়।