নদীয়ায় আমফান ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন

আমফান ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ২৯ জুন নদীয়া জেলার ধুবুলিয়া ব্লকের ন’পাড়া পঞ্চায়েত দপ্তরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় এলাকার শতশত মানুষ। নেতৃত্বের সামনের সারিতে ছিলেন হজরত সেখ, রতন বাগ, ঠান্ডু সেখ প্রমুখ এলাকার পার্ নেতারা। ...

nad

আমফান ত্রাণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে গত ২৯ জুন নদীয়া জেলার ধুবুলিয়া ব্লকের ন’পাড়া পঞ্চায়েত দপ্তরে তুমুল বিক্ষোভ দেখায় এলাকার শতশত মানুষ। নেতৃত্বের সামনের সারিতে ছিলেন হজরত সেখ, রতন বাগ, ঠান্ডু সেখ প্রমুখ এলাকার পার্ নেতারা। ১০০ দিনের কাজের দাবি নিয়ে বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ব্যাপক সংখ্যক পরিযায়ী শ্রমিকেরা। তৃণমুলের যে মাতব্বররা দুর্নীতির সাথে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে আছড়ে পড়ে গণক্ষোভ। আগের দিন প্রবল বৃষ্টির মধ্যে পার্টির লোকাল কমিটি আয়োজিত সভায় জেলা সম্পাদক সুবিমল সেনগুপ্ত, সন্তু ভট্টাচার্য জনগণকে দুর্নীতিবাজ নেতাদের চেপে ধরা ও তাদের কাছে জবাব চাওয়ার আহ্বান জানান। এর আগে নাকাশীপাড়া ব্লকেও আমফান ঘুর্ণিঝড়ে ক্ষতিপূরণের টাকা নিয়ে সীমাহীন দুর্নীতি দলবাজির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ কর্মসূচী সংগঠিত হয়। এই দুটি ব্লকেই কিষাণ মহাসভা, আয়ারলা, এআইকেএসসিসি-র পক্ষ বিক্ষোভ ডেপুটেশন দেওয়া হয়। নেতৃত্বে ছিলেন জয়তু দেশমুখ, কাজল দত্তগুপ্ত প্রমুখ। নাকাশীপাড়া ব্লকে উপভোক্তাদের তালিকা বার করে তথ্যপ্রমাণ-সহ আবেদনপত্র বিডিওকে জমা দেওয়া হয়। এ বিষয়ে তৎপর ভুমিকা নেন বেথুয়াডহরী এলাকার পার্টি কর্মী শিশির বসাক। যাদের দোতলা পাকা বাড়ি, ঝড়ে কোনো ক্ষতি আদৌ হয়নি, তাদের নামে অভিযোগ ও তদন্তর আবেদন জানালে অনেকেই টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়। যাদের মধ্যে রয়েছে শাসক তৃণমূলের পঞ্চায়েত কর্মকর্তা, এমন কি বিজেপির বড় বড় নেতারাও! দাবি জানানো হয়, কেবল টাকা ফেরত দিলেই চলবে না। দুর্নীতি ও সরকারি তহবিল তছরুপের দায়ে মামলা দায়ের করে দোষীদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।

dad

 

আমফান ঘুর্ণিঝড়ের পরবর্তীতে দীর্ঘ সময় ধরে নদীয়া জেলার প্রশাসন জানিয়েছে যে এ জেলায় নাকি আদৌ কোনো ক্ষতি হয়নি। এ নিয়ে বারংবার ডেপুটেশন দেওয়া হয়েছে। ধান, তিল, নানান সব্জির যে বিপুল ক্ষতি, তার ন্যায্য ক্ষতিপূরণের দাবি সরকার প্রশাসন ধর্তব্যের মধ্যেই আনেনি। পরবর্তীতে যাদের কিষাণ ক্রেডিট কার্ড রয়েছে তদন্তের ভিত্তিতে ২ হাজার টাকা তাঁদের এ্যাকাউন্টে ঢুকবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু কারা পেলো কারা পেলোনা — এ সব বিষয়ে কোনো রকম স্বচ্ছতা নেই। এটা দুর্নীতি দলবাজির চরম নিদর্শন।

এত বেপরোয়াভাবে টাকা চুরির মধ্য দিয়ে শাসকদল গ্রামাঞ্চলে তার ক্ষমতার আধিপত্য কায়েম রাখতে চেয়েছে। আমরাই দন্ডমুন্ডের কর্তা। আমরা যা বলব, যাকে বলব কেবলমাত্র সেই সরকারী সুযোগসুবিধা পাবে। এ ভাবেই শাসকদল তৃণমূলস্তরে এলাকায় এলাকায় তাঁদের হুকুমদারী কায়েম রাখতে চেয়েছে। জনগণকে দলদাসে পরিণত করে রাখতে চেয়েছে। কিন্তু ফলাফল দেখিয়ে দিচ্ছ যে, এই চরম বিপর্যয়ের দিনে লুঠের কারবার মানুষ আর মুখবুজে সহ্য করতে রাজী নয়। তাই শুরু হয়েছে স্বতঃস্ফুর্ত গণবিদ্রোহ।

Published on 03 July, 2020