করোনা অতিমারীর পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে বেসরকারী সংস্থার ম্যানেজমেন্ট অনেকক্ষেত্রে নিযুক্ত শ্রমজীবীদের কর্মস্থল থেকে অন্যায়ভাবে ছাঁটাই করছে। একই সময়ে একই পন্থা নেওয়া হচ্ছে সরকারী ক্ষেত্রেও। এরকমই পলিসি নিচ্ছে উত্তরাখন্ড সরকার। জুন মাসেই এই মর্মে জারী হয়েছে তার সার্কুলার। তাতে একটা পয়েন্টে বলা হয়েছে সরকারের ব্যয় কমানোর লক্ষ্যে ২০২০-২১ আর্থিক বছরে দৈনিক মজুরির ভিত্তিতে অথবা ঠিকা চুক্তিতে শ্রমজীবী বর্গের নিয়োগ স্থগিত থাকবে। নিয়োগের দরজা বন্ধ হবেনা, খোলা থাকবে কেবল বিভিন্ন দপ্তরের ওপরতলার ঐ উপদেষ্টা, চেয়ারম্যান ইত্যাদি ক্ষমতার বলয়ে থাকা পদগুলোর জন্য। উত্তরাখন্ড সরকার ব্যয় কমানোর কথা তুলে অতি কম মজুরির কাজগুলো উধাও করে দিতে চায়, কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর বরাদ্দ করা সরকারী আবাসে আবাসিকদের থেকে ভাড়া নেওয়া হয় না। এব্যাপারে উচ্চ আদালতে মামলা গড়ালে উচ্চ আদালত ভাড়া নিতে রায় দেয়। সেই রায় ঠেকাতে সরকার আবার নতুন নিয়মবিধি তৈরি করে, সেটাও আদালতের রায়ে খারিজ হয়ে যায়। সরকার আসলে অনুসরণ করছে স্বজনপোষণ নীতি। গত বছর ঠিকা শ্রমিকরা সমকাজে সম-মজুরির দাবি জানিয়েছিল। সেই বিষয়ে বিভাগীয় প্রধানের তরফে কড়া মনোভাব নেওয়া হয়েছিল। এবারের জুন মাসের সার্কুলারে কঠোর অবস্থান জানিয়ে দেওয়া কোন অবস্থাতেই আর শ্রমিক নিয়োগ করা হবে না, একান্তই যদি প্রয়োজন হয় তাহলে আউট সোর্সিং করা হবে। উত্তরাখন্ডে একদিকে বেকারির রেখা চিত্র রকেট গতিতে উর্ধগামী হচ্ছে, অন্যদিকে সরকার নিচ্ছে ‘নিয়োগ নয়’ নীতি। স্বাভাবিকভাবেই এই পরিস্থিতি দাবি জানাচ্ছে শ্রমজীবীদের পদগুলিতে নিয়োগের জন্য লড়াই সংগঠিত করতে হবে। যুবশক্তির বেকারির অবসানের দাবিতে লড়াই ছাড়া অন্য কোনো সহজ রাস্তা নেই।