এআইসিসিটিইউ-এর তরফে জারি করা প্রেস বিজ্ঞপ্তি

• পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্রোধ সঙ্গত ও ন্যায্য। • বিক্ষুব্ধ পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর পুলিশী বর্বরতাকে এআইসিসিটিইউ তীব্র নিন্দা করছে। • তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে।

h66

• পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্রোধ সঙ্গত ও ন্যায্য।
• বিক্ষুব্ধ পরিযায়ী শ্রমিকদের উপর পুলিশী বর্বরতাকে এআইসিসিটিইউ তীব্র নিন্দা করছে।
• তাঁদের নিজ নিজ রাজ্যে ফিরিয়ে আনতে বিশেষ পরিবহন ব্যবস্থার দাবি জানাচ্ছে।

গোটা দেশজুড়ে পরিযায়ী শ্রমিকরা এক অন্তহীন দুর্দশার কবলে। আরও ১৯ দিন, অর্থাৎ, ৩রা মে পর্যন্ত মোদী সরকার এই দুর্দশাকে টেনে নিয়ে গেল। হতদরিদ্র ওই সমস্ত শ্রমিকেরা চরম দুরাবস্থার মধ্যে, পরিচ্ছন্ন- পাকাপোক্ত আশ্রয়স্থল ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশের বদলে অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারগুলোর অপরাধসম নির্লিপ্ততার কারণে। এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকদের ক্রোধ স্বতস্ফূর্তভাবে ফেটে পড়ছে রাজপথে, আর তাঁদের ঠান্ডা করতে নেমে আসছে নির্মম পুলিশি দমন পীড়ন। করোনার এই ঘোর দুঃসময়ে তাঁদের এই সংকটকে অনেক বেশি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সংবেদনশীলতার সাথে দেখা উচিত ছিল। তাঁদের ছাঁটাই না করা, মজুরি না কেটে নেওয়া বা লকডাউনের পর্যায়টি সবেতন ছুটি হিসাবে গণ্য করার যে সরকারি বিজ্ঞপ্তি ছিল, তাকে কার্যকরী করতে জোর না দিয়ে রাষ্ট্রশক্তি স্বৈরাচারী মনোভাব নিয়ে তাঁদের ন্যায়সঙ্গত ক্ষোভকে দাবিয়ে রাখতে তৎপর হয়ে উঠেছে। উল্টে, অতিমারির এই সংকটের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে সরকার শ্রমিকদের অধিকারগুলো হরণ করতে উদ্যত। সরকার এখন শ্রম দিবসকে ১২ ঘণ্টা বাড়ানোর কথা চিন্তাভাবনা করছে। আম্বেদকর দিবসে, ১৪ এপ্রিলে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণে শ্রমিকদের বিপন্নতাকে নিরসন করতে কোনো আমলই দেওয়া হলো না। বরং, তা ঝুড়ি ঝুড়ি মিথ্যা ও বুলি সর্বস্বতায় পরিণত হল, আবার প্রমাণিত হল প্রধানমন্ত্রী কোনো কিছুই তোয়াক্কা করেন না।

গতকাল বিহার, উত্তর প্রদেশ, পশ্চিম বাংলা থেকে দু’হাজারের ও বেশি পরিযায়ী শ্রমিক একত্রিত হয়ে রেশনের ও নিজেদের রাজ্যে ফিরে আসার দাবিতে সোচ্চার হন। তাঁদের উপর নির্মমভাবে চলল লাঠি, যথেচ্ছ ধরপাকড় শুরু হয়, রেহাই পায়নি এমনকি নিরীহরাও। প্রায় ১০০০ র বেশি সংখ্যায় এফআইআর দায়ের হয়েছে বান্দ্রা স্টেশনের ঘটনায়, লকডাউন আরও বাড়ানোর ঘোষণার পর। এই বিক্ষোভ টাকে ষড়যন্ত্র ও গুজবের ফসল হিসাবে দেখানোর চেষ্টা চালানো হচ্ছে। দিনকয়েক আগে ক্ষুধার্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা সুরাতের রাস্তায় নেমে পড়েন প্রতিবাদ জানাতে। তখন তাদের উপর নেমে আসে নির্মম লাঠির আঘাত, তাদের গ্রেপ্তারও করা হয়। সুরাতে শ্রমিকরা আবার রাস্তায় নেমেছেন প্রতিবাদ জানাতে। গোটা দেশ জুড়ে এই ক্রোধ ধিক ধিক করে জ্বলছে। অন্যদিকে, এই সমস্ত শ্রমিকেরা খেতে না পেয়ে, ঘরে ফিরতে না পারার চরম হতাশা থেকে আত্মঘাতী হচ্ছেন। আর, এটা এখন হয়ে উঠেছে এক সাধারণ ঘটনা। কয়েকটা উদাহরণ দেওয়া যাক। চেন্নাইয়ে রং এর কারখানায় কর্মরত বিহার থেকে আগত এক তরুণ শ্রমিক খিদের জ্বালায় আত্মহত্যা করেছেন। হায়দ্রাবাদে, বিহারের এক পরিযায়ী শ্রমিক ঘরে ফিরতে না পারায় হতাশায় আত্মঘাতী হন। সর্বত্র, এমনকি দেশের রাজধানীতেও এসব ঘটছে। কিছুদিন আগে, ২৪ মার্চ প্রথমবার দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষিত হওয়ার পর আমরা দেখেছিলাম হাজারে হাজারে পরিযায়ী শ্রমিক মাইলের পর মাইল পথ ধরে নিজ নিজ রাজ্যের দিকে হাঁটতে শুরু করেন। লকডাউনের দুঃসহ ২১টা দিন কাটানোর পর এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা আবার রাস্তায় নেমে আসেন মরিয়া হয়ে ঘরে ফেরার জন্য, পর্যাপ্ত রেশনের দাবিতে।

পরিযায়ী শ্রমিকদের অবস্থা দিনের পর দিন খারাপ হচ্ছে। তাঁদের দুর্দশা থেকে রক্ষা করতে, অনাহার মৃত্যু ঠেকাতে, পর্যাপ্ত রেশন, পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত আশ্রয়স্থল, মজুরি সংকোচন রুখতে জনধন অ্যাকাউন্টে এককালীন অনুদান পাঠাতে এ আই সি সি টি ইউ দাবি জানাচ্ছে --

  • রাজ্য সরকারগুলোর সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ ট্রেন ও অন্যান্য যানবাহনের ব্যবস্থা করে পরিযায়ী শ্রমিকদের ঘরে ফেরানোর ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। করোনা ভাইরাসকে ঠেকাতে সমস্ত বিধিসম্মত সুরক্ষা কবচ নিয়েই তা করতে হবে।
  • বিনামূল্যে যাতায়াতের জন্য সকলের জন্য রান্না করা ও শুকনো খাবারের জোগান দিতে হবে। প্রত্যেকের জন্য ১০,০০০ টাকা ও ওষুধের ব্যবস্থা করতে হবে। এই সমস্ত পরিযায়ী শ্রমিকরা নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই যথাযথ স্বাস্থ্য সম্মত ও পরিকাঠামো রয়েছে এমন বিকেন্দ্রীভূত কোয়ারান্টাইন কেন্দ্রের ব্যবস্থা করতে হবে।
  • প্রত্যেক শ্রমিককে একটা বৈধ কাজের পারমিট দিতে হবে, যাতে আবার স্বাভাবিক সময় ফিরে আসার পর তাঁরা যেন নিজেদের কাজ ফিরে পায়।

কোটি কোটি পরিযায়ী শ্রমিক ও দেশের শ্রমিকশ্রেণির সঙ্গত ও ন্যায্য দাবিগুলোর প্রতি চোখ বন্ধ করে থাকলে কোভিড-১৯-র বিরুদ্ধে এই লড়াইটা লড়া যাবে না। ঔদ্ধত্যপূর্ণ মনোভাব নিয়ে সমস্ত প্রতিবাদকে দমন করাটা শুধু অযৌক্তিকই নয়, তাকে দ্ব্যর্থহীন ভাষায় নিন্দা জানাতে হবে।

রাজিব ডিমরি,
সাধারণ সম্পাদক, এআইসিসিটিইউ।

Published on 17 April, 2020