দেশজুড়ে প্রতিবাদ দিবস পালিত হল ১২ এপ্রিল

দেশব্যাপী নিরন্ন অসহায় মানুষের সঙ্কটের মুখে সরকারের ইচ্ছাকৃত মৌনতা, নিশ্চেষ্টতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয় সিপিআই(এম এল) এর পক্ষ থেকে। একটি খোলা আহ্বানে জানানো হয় – ....

h17

দেশব্যাপী নিরন্ন অসহায় মানুষের সঙ্কটের মুখে সরকারের ইচ্ছাকৃত মৌনতা, নিশ্চেষ্টতার বিরুদ্ধে দেশব্যাপী প্রতিবাদের ডাক দেওয়া হয় সিপিআই(এম এল) এর পক্ষ থেকে। একটি খোলা আহ্বানে জানানো হয় –

“প্রায় তিন সপ্তাহ হয়ে গেল সারা দেশ সম্পূর্ণ লকডাউনে আছে। বেঁচে থাকার জন্য আমরা যারা দিনমজুরি করি, লকডাউনে তাদের উপার্জনও লকড হয়ে গেছে। দৈনন্দিন প্রয়োজন মেটাতে খাবার বা অন্যান্য অপরিহার্য্য দ্রব্য খরিদ করার সামর্থ্য আর নাই আমাদের।

সঞ্চয় যা ছিল তা শেষ। আমাদের খাবার থালা শূন্য এবার। কে তা পূর্ণ করবে? আমাদের ছেলেমেয়েরা না খেয়ে ঘুমোতে যাচ্ছে, কে তাদের খাওয়াবে?

লকডাউনের নামে এই ক্ষুধার সাম্রাজ্য আমরা মেনে নেব না। ঘাম ঝড়িয়ে আমরাই যে খাদ্য শস্য উৎপন্ন করেছিলাম তা দেশের খাদ্য ভাণ্ডারগুলিতে মজুদ আছে। এখন সেই খাদ্য দেশের মানুষের মাঝে বিতরণ কর।

ট্যাক্স আর ফি হিসেবে আমরা যে অর্থ দিই তা দিয়েই তো তোমরা ভর্তি কর রাজকোষ। আর তোমরা রিজার্ভ ব্যাঙ্ক থেকে টাকা সরাও। এখন আমাদের মজুরি আর ভাতা মেটাতে রাষ্ট্রীয় তহবিল থেকে খরচ কর। সবার জন্য খাবার, সবার জন্য রেশন, সবার মজুরি আর সবার সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত কর।

আমাদের বললে থালা ঘটি বাটি বাজাতে, আমাদের ঘটিবাটি তো এখন চাটি হয়ে গেল। তুমি খুব মন-কি বাত শোনালে, এখন একটু আমাদের ক্ষুধা কাতরতা শোনো। আমাদের খালি ঘটিবাটি, খালি পেট ভরে দাও। আমাদের ভুখা পেটে অন্ন দাও। আমাদের রেশন দাও। আমাদের মজুরি আর ভাতা দাও।

ক্ষুধার্ত ভারত কোভিড-১৯ মোকাবিলা করবে কীভাবে? বুভুক্ষু মানুষের মুখে অন্ন তুলে দাও, অনাহার আটকাও, তবে না হবে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই !

আসুন, ১২ এপ্রিল আমরা আমাদের শূন্য থালাবাটি বাজাই যাতে এই বধির মোদী সরকারের কানে কথাগুলি পৌঁছায়। আমরা লড়ব, আমরা জিতব।”


বিভিন্ন জায়গায় এই বিক্ষোভ কর্মসূচী পালনের যে রিপোর্ট ও ছবি এসে পৌঁছেছে তার কয়েকটি এখানে রইলো –

dar

 

১) দার্জিলিং জেলার রিপোর্ট – খালি পেটে করোনার বিরুদ্ধে লড়াই করা যায় না, যাবে না। খালি পেটে ভাতের দাবিতে, সকলের জন্য রেশন এবং মজুরির দাবিতে বধির সরকারের কানে সম্মিলিত আওয়াজ পৌঁছে দিতে দেশের অন্যান্য জায়গার সাথে সাথে দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ির শক্তিগড় সন্নিহত জলপাইমোড়, রাঙাপাণির বরপথু এবং ডাবগ্রাম ফুলবাড়ির অন্তর্গত ফকদই বাড়ির নীচপাড়া অঞ্চলে অসংগঠিত ক্ষেত্রের শ্রমিক, পরিচারিকা, ক্ষেতমজুর সহ দরিদ্র শ্রমজীবী মানুষেরা কোথাও  খালি থালা বাজিয়ে, কোথাও শ্লোগান দিয়ে, বক্তব্যের মাধ্যমে  নিজেদের অধিকারের পক্ষে সরব হয়েছেন। মানুষের স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কমরেডরা চেষ্টা করলেও কোথাও কোথাও সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হয়নি। কিন্তু এই স্বতস্ফূর্ততা মানুষের বিপন্নতাকেই প্রকট করেছে। তাদের সোচ্চর দাবি শুনে প্রয়োজনে রাস্তায় বেরোনো  মানুষদের দাঁড়িয়ে থাকতেও দেখা যায়।

জেলার তিন জায়গার কর্মসূচীতে নেতৃত্ব দেন পুলক গাঙ্গুলী, অপু চতুর্বদী, পবিত্র সিংহ, মীরা চতুর্বদী, শাশ্বতী সেনগুপ্ত, রুবী সেনগুপ্ত, রজত বর্মণ, শরত সিংহ, নেমু সিংহ, শিখা সিংহ, কৃষ্ণপদ সিংহ, দীনবন্ধু, গোপাল সরকার, গঙ্গা রায়, নীলিমা সরকার, কল্পনা সরকার, সুভাষ মন্ডল পঞ্চা বর্মণ, রেনু দাস, ভাগ্য মন্ডল প্রমুখ।

- শাশ্বতী সেনগুপ্ত

২) উত্তর ২৪ পরগণার রিপোর্ট - ক্ষুধার বিরুদ্ধে, খাদ্য-মজুরি-ভাতার দাবিতে বিক্ষোভ আন্দোলনে উঃ ২৪ পরগণা জেলার বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসী, ক্ষেতমজুর, অসংগঠিত ও সংগঠিত শ্রমিক, শহুরে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষ রাস্তায় নামেন।

অশোকনগরে জনবহুল গোলবাজের সুসজ্জিত দাবি সনদ নিয়ে কর্মীরা উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন । পার্টি নেতা কম, অজয় বসাক সংক্ষিপ্ত ভাষণে দাবিগুলো তুলে ধরে বলেন – দেশজুড়ে দ্বিতীয় পর্যায় লকডাউন হতে চলেছে। ৯০ কোটি শ্রমজীবী মানুষ বিপন্ন। অনাহারের পথে। কেন্দ্রীয় সরকার ঘোষিত বিশেষ রেশন ২০ দিন অতিক্রান্ত। আজও এল না । সরকারি শস্যভান্ডার প্রয়োজনের অতিরিক্ত সাড়ে ৩ গুণ খাদ্য মজুত। অথচ যে কৃষক-ক্ষেতমজুর এই ফসল তুলে গুদামে ভরেছে তারাই অনাহারে। তাই ভুখা পেটে লকডাউন হতে পারে না। হয় করোনা নয় অনাহার, মানুষের মৃত্যু অনিবার্য। এর বিরুদ্ধে সকলে সোচ্চার হোন ।

বিকাল ৫টায় অশোকনগর শ্রীকৃষ্ণপুর অঞ্চলের আদিবাসী, ক্ষেত মজুররা থালা বাজিয়ে ঐ দাবিতে সোচ্চার হন।

গণশিল্পী অনুপ মজুমদার ও মেঘনা মজুমদার এই সময়ের অনবদ্য সঙ্গীত গেয়ে সংহতি জানান।

জেলার নৈহাটি থানার শিবদাসপুর অঞ্চলের আদিবাসী ক্ষেতমজুররা তাড়িখানা মোড়ে জমায়েত হয়ে খাদ্য, ভাতার দাবিতে থালা বাজিয়ে সোচ্চার হন। নৈহাটি শহরের নৈহাটি জুট মিলের শ্রমিকরাও একই দাবিতে থালা বাজিয়ে পোস্টার-পতাকা সহ শ্রমিক মহল্লায় প্রতিবাদী কর্মসূচী পালন করেন। বারাসাতের কর্মীরা জেলাপরিষদ ভবনের সামনে খাদ্য, ভাতা, মজুরির দাবিতে পোস্টারে শ্লোগানে সোচ্চার হন। হালিশহর সাংস্কৃতিক সংস্থা, নির্মাণ ও রেল শ্রমিক সংগঠকরা আজ সকালে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাবার পৌঁছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি এই প্রতিবাদী কর্মসূচী পালন করেন। নৈহাটি অগ্নিবীণার সাংস্কৃতিক সংস্থা আইসার ছাত্র বন্ধুদের সহযোগিতায় ক্ষুধার বিরুদ্ধে আজকের এই কর্মসূচিকে সফল করার আহ্বান জানিয়ে এক আকর্ষনীয় গানের ভিডিও প্রকাশ করে।

hg

৩) হুগলি জেলার রিপোর্ট –

গ্রামাঞ্চল
◾ ভুখা পেটে খাদ্য ও পর্যাপ্ত আর্থিক সাহায্যের দাবিতে পাণ্ডুয়া ব্লকের বৈঁচিতে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশনের উদ্যোগে মিছিল সংগঠিত হয় সকাল ৯:৩০ টা থেকে ১০:৩০ টা পর্যন্ত। এই মিছিল বৈঁচি বাজার এলাকা পরিক্রমা করে। ক্ষেতমজুর মহিলারা থালা বাজিয়ে তাঁদের ক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

◾ ধনিয়াখালি ব্লকের কনুইবাঁকা ও জয়হরিপুর পার্টি, সারা ভারত কৃষি ও গ্রামীণ মজুর সমিতি ও আদিবাসী অধিকার ও বিকাশ মঞ্চের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত রেশনের দাবিতে ভুখা পেটে গ্রামের মেহনতি মানুষদের থালা বাজানো কর্মসূচি সংগঠিত হয়।

◾ পোলবা-দাদপুর ব্লকের বরুনানপাড়া গ্রাম, বিডিও অফিস মোড় ও রামনগর মোড়ে ভুখা পেটে খাদ্য, আর্থিক সহায়তা ও রেশনের দাবিতে পার্টি, আদিবাসী মঞ্চ ও আয়ারলার নেতৃত্বে আদিবাসী সমাজ ও ক্ষেতমজুর জনতার শূণ্য থালা ও প্ল্যাকার্ড, লাল ঝাণ্ডা সহ বিক্ষোভ দেখান।

◾ বলাগড় ব্লকের ইছাপুর বেলেডাঙ্গা মোড়ে সারা ভারত কৃষি ও গ্রামীণ মজুর সমিতির পক্ষ থেকে খাদ্যের দাবিতে ক্ষেতখামারে প্রতিবাদে নামেন আদিবাসী জনতা।

gh

 

শহরাঞ্চল
◾ চুঁচুড়ায় রেশন অফিসের সামনে শ্রমিক সহ সমস্ত গরিব মানুষদের ভুখা পেটে খাদ্য, রেশন, ভাতা ও মজুরির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচী হয়।

◾ লকডাউনে নির্মাণ সহ অসংগঠিত শ্রমিকদের মজুরি, খাদ্য, রেশনের দাবিতে কোন্নগর ও উত্তরপাড়া-কোতরং পৌর এলাকার সংযোগস্থলে অরবিন্দ পল্লীতে পার্টির উত্তরপাড়া-রিষড়া এরিয়া কমিটি ও AICCTU উত্তরপাড়া থানা এলাকা কমিটির উদ্যোগে অবস্থান কর্মসূচী হয়।

গোটা জেলা জুড়েই সবকটি কর্মসূচী লকডাউনের শারীরিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি বজায় রেখেই সংগঠিত হয়।

ta

 

৪) পূর্ব বর্ধমান জেলার রিপোর্ট –

কালনা ২নং ব্লক এর অকালপোষ অঞ্চলের আগ্রাদহে সিপিআই(এম-এল)লিবারেশন-এর কালনা লোকাল কমিটির পক্ষ থেকে ৫০-৬০ জনের বেশি গরিব আদিবাসীদের মহিলা পুরুষ ও অন্যান্য গ্রামীণ মেহনতি মানুষকে নিয়ে লকডাউন-এর নিয়ম মেনেই মিছিল অবস্থান সংগঠিত করা হয়। অবস্থান কর্মসূচীতে থালা বাসন বাজিয়ে খাদ্য রেশন ভাতা ৫০ কেজি খাদ্য শস্য তেল ডাল আলু অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ১০ হাজার টাকা অনুদান মাসিক প্রতিটি গরিব পরিবারের জন্য সরবরাহের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান হয়। এই বিক্ষোভ কর্মসূচীর আগ এলাকায় পোষ্টার লাগানো হয়। খবর পেয়ে প্রশাসন কালনা থানার অফিসার ইনচার্জ বারবার সিপিআই(এম-এল) নেতাদের ফোন করে কর্মসূচীর রুপায়নে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। সিপিআই(এম-এল) নেতৃত্ব নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই কর্মসূচী সফল করেন। ঐদিনই চাল ডাল কালেকশন করে ২৫০-র মতো গরিব মানুষের মধ্যে রান্না খাবার বিতরণ করা হয় । সমস্ত কর্মসূচীর নেতৃত্বে ছিলেন লোকাল কমিটির সম্পাদক কমরেড রফিকুল ইসলাম ও জেলা কমিটির সদস্য কমরেড প্রদ্যুত ঘোষ। এলাকার মানুষের মধ্যে এই কর্মসূচীর ভালো প্রভাব পড়ে। বাকি কালেকশন করা চাল ডাল গরিব মানুষের মধ্যে ঘরে ঘরে বণ্টন করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুর্বস্থলী ২নং ব্লকের সিমলা গ্রামের গরিব কৃষিমজুরদের সংগঠিত করে অবস্থান বিক্ষোভ প্রদর্শন করা হয়।বিক্ষোভ অবস্থানে বক্তব্য রাখেন সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন-এর পুর্বস্থলী-কাটোয়া এরিয়া কমিটির সম্পাদক কমরেড শিবু সাঁতরা। উপস্থিত থাকেন জেলা কমিটির সদস্য কমরেড সমীর বসাক ও লোকাল কমিটির সদস্য এবং ব্রাঞ্চ সম্পাদক কমরেড পার্থ মন্ডল ।

পুর্বস্থলী ১নং ব্লকের ইসলামপুর গ্রামে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন-এর জেলা কমিটির সদস্য কমরেড জিয়াদুল সেখের নেতৃত্বে বিক্ষোভ অবস্থান সংগঠিত করা হয়। থালা বাজিয়ে শ্লোগানের মাধ্যমে বিক্ষোভ প্রদর্শন সম্পন্ন করা হয় ।

মেমারী ২নং ব্লকে লোকাল কমিটির সম্পাদক মনসুর মন্ডলের নেতৃত্বে তিনটি গ্রামে পোস্টার লাগানো হয়।

মন্তেশ্বর ব্লকের কুলুট গ্রামে সিপিআই(এম-এল) লিবারেশন-এর রাজ্য কমিটির সদস্য কমরেড আনসারুল আমান মন্ডলের নেতৃত্বে থালা বাজিয়ে ও শ্লোগান-এর মাধ্যমে গরিব মজুরদের উপস্থিতিতে বিক্ষোভ সংগঠিত হয়। পরে এলাকার গরিব মানুষের মধ্যে চাল ডাল আলু সংগ্রহ করে বিলি করা হয়।

(সজল পাল)

৫) নদীয়া জেলার রিপোর্ট –
নদীয়া জেলার কালীগঞ্জে গহরাপোতা গ্রামের গরিব মানুষরা গ্রামের মধ্যে একটা যায়গায় জড়ো হন এবং থালা হাতে নিয়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করেন। সমস্ত গরিব মানুষকে রেশন দিতে হবে, মাসিক ৫০ কেজি খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করতে হবে -- প্রভৃতি স্লোগান তোলা হয়। পার্টি কর্মীরা আওয়াজ তোলেন, লকডাউনে গরিব মানুষের যখন কাজ নেই তখন প্রতিটি জবকার্ডে ১০ হাজার টাকা করে দিতে হবে। আমাদের পার্টি যে এই সমস্ত দাবিগুলিকে তুলে ধরে সারা দেশ জুড়ে প্রতিবাদ সংগঠিত করছে এই বার্তা গোটা গ্রামে প্রচারিত হয় এবং তা ব্যাপক মানুষের সমর্থন পায়।

১২ এপ্রিল ছিলো কমরেড জালালের শহীদ দিবস। তাই ঐ দিন খাদ্যের দাবিতে প্রতিবাদ দিবস উদযাপন একটা ভিন্ন মাত্রা এনে দেয়। ঐদিন বিকাল ৪টায় নাকাশীপাড়া ব্লকের গাছা বাজারে অবস্থিত কমরেড জালালের শহীদবেদীর সামনে গাছা গ্রামের পার্টি কর্মীরা সমাবেশিত হন। উপস্থিত ছিলেন জেলা সম্পাদক সুবিমল সেনগুপ্ত, জেলা সদস্য কাজল দত্তগুপ্ত, যুব সংগঠক অমিত মন্ডল, মুড়াগাছা লোকাল কমিটির সম্পাদক হবিবুর রহমান প্রমুখ। কমরেড জালাল সহ কৃষক প্রতিরোধ সংগ্রামের সমস্ত শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়, তারপর শহীদ বেদীতে মাল্যদান করে নীরবতা পালন করা হয়। স্লোগান ওঠে সমস্ত গরিব মানুষকে রেশন দাও,খাদ্য দাও। দেশজুড়ে খাদ্যের দাবিতে সিপিআই(এমএল) লড়ছে লড়বে ইত্যাদি। গাছা বাজারে জাতীয় সড়কের পার্শ্ববর্তী স্হানে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচী এলাকার ব্যপক মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। আজকের লকডাউনের সময়কালে গরীব মানুষের রুজি রুটির লড়াইকে সংগঠিত করার মধ্য দিয়ে শহীদ কমরেড জালালের স্বপ্নকে সফল করার পথে এগিয়ে যাওয়ার শপথ উপস্থিত পার্টি কর্মীরা গ্রহণ করেন।

- জয়তু দেশমুখ।

kol

 

৬) কোলকাতা জেলার রিপোর্ট -- সমস্ত ভুখা পেটে খাদ্য, সব হাতে বেতন, মজুরি, ভাতা, নিত্যপ্রয়োজনীয় রেশনের দাবিতে ১২ এপ্রিল সারা দেশের মতো কলকাতাতেও বিক্ষোভ কর্মসূচী নেওয়া হয়। যাদবপুরের পালবাজারে এবং যাদবপুর ঢাকুরিয়া আঞ্চলিক পার্টি অফিসে পোস্টার প্ল্যাকার্ড নিয়ে স্বাস্থ্য বিধি বজায় রেখে প্রতিবাদ সংগঠিত হয়।

বেহালার কালিতলায় সিপিআই(এমএল) লিবারেশনের উদ্যোগে রাস্তায় গ্রাফিতি ও শ্লোগানের মাধ্যমে পরিযায়ী শ্রমিকদের খাদ্য সংকটের সমস্যা সমাধানের দাবি ও করোনার বিরুদ্ধে সচেনতা তুলে ধরা হয়। ১২ তারিখ সেইখানেই খাবার, রেশনের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচীতে সামিল হন স্থানীয় কমরেডরা।

-- মধুরিমা বক্সী

Published on 17 April, 2020