আমাদের দীর্ঘদিনের দুর্গাপুরের শ্রমিক কমরেড শান্তনু বক্সি গত ২৬ জুন বর্ধমানের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২৭ মে বর্ধমান হাসপাতালে তিনি ভর্তি হন। হঠাৎ শরীর খারাপ হওয়ার পর চিকিৎসা প্রক্রিয়া শুরু। তাতে ক্যান্সার ধরা পড়ে। হাসপাতালে চিকিৎসা চলতে থাকে, তবে ডাক্তার বলেন বাড়ি নিয়ে যান। তারপর বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়। তার তিনদিন পরে কমরেড সবাইকে ছেড়ে চলে যান। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। এই মৃত্যুর খবর আমাদের পার্টির কাছে খুবই আঘাত ও বেদনাদায়ক।
কমরেড বক্সীদা দীর্ঘদিনের কর্মী ছিলেন। দূর্গাপুরের ডিএসপি-র স্টিল মেলটিং শপ বিভাগে ক্রেন অপারেটারের কাজ করতেন। প্রয়াত কমরেড সুদর্শন বসুদের অনেক সিনিয়র ছিলেন। লড়াকু শ্রমিক নেতা ছিলেন। পার্টি সদস্য ছিলেন। পার্টির গোপন অবস্থায় বক্সিদার বাড়ি নির্ভরযোগ্য আশ্রয়স্থল ছিল। পার্টি পুনর্গঠনের সময় এই কমরেডদের ভূমিকা আমরা কোন দিন ভুলবো না। ১৯৭৪ সালে ২৮ জুলাই দুর্গাপুরে এক শ্রমিক কোয়ার্টারে বৈঠক চলাকালীন অন্যান্যদের সঙ্গে বক্সিদাও ছিলেন পাহারায়। নির্ভীক, দৃঢ়, বিনয়ী মানবিক ছিলেন। অবসর গ্রহণের পর বর্ধমান শহরের বাড়িতে ফিরে এসেও পার্টির সাথে ছিলেন। বক্সিদার সন্তান কমরেড বাপন। দুর্গাপুরে বি-জোনের চন্ডীদাস লেনে থাকতেন। তিনি ও অনেকে মিলে ডঃ নর্মান বেথুন-এর নামে একটা আকুপাংচার সেন্টার করেছিলেন। এই রকম অনেক ধরনের সামাজিক কাজের সাথে যুক্ত থাকতেন। কমরেড বক্সিদার মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। বক্সিদার পরিবার পরিজনদের শোকের সাথে এবং বর্ধমান জেলার কমরেডদের শোকের সাথে ব্যাক্তিগতভাবে আমি ও সমস্ত পার্টি সহমর্মিতা জানাই। বক্সিদা লালসেলাম, বক্সিদা অমর রহে।
- কার্তিক পাল