ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্প (যুদ্ধাস্ত্র তৈরির সরকারী সংস্থা)-কে কর্পোরেটকরণের ঘোষণার বিরুদ্ধে লাগাতার স্ট্রাইক সংগঠিত করতে চলেছে এই শিল্পের শ্রমিক কর্মচারীরা। ১ জুলাই ২০২০ এনপিডিইএফ এবং এআইসিসিটিইউ অনুমোদিত কাশীপুর জিএসএফ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সভাপতি জয়দেব দের স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের বিষয়ে সদস্যদের মতামত নেওয়ার জন্য ইউনিয়নের পক্ষ থেকে স্ট্রাইক ব্যালট গ্রহণ করা হয়। ভোটের স্ট্রাইকের পক্ষে বিপুল সমর্থন জ্ঞাপন করেন শ্রমিকেরা। ১৩২০ জন সদস্যের মধ্যে ১২২৬ জন সদস্য ভোটে অংশগ্রহণ করেন এবং ৯৪ জন সদস্য অনুপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে ১১৭৯ জন স্ট্রইকের পক্ষে এবং ৪৭ জন বিপক্ষে রায় দেন। ডেপুটি লেবার ওয়েলফেয়ার কমিশনার(সি) ও ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি অফিসের তত্বাবধানে সকাল ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ প্রক্রিয়া চলে। বিকেল তিনটার সময় ইউনিয়ন অফিসে ডেপুটি লেবার ওয়েলফেয়ার কমিশনার(সি), এ্যাসিসট্যান্ট লেবার ওয়েলফেয়ার কমিশনার ও ফ্যাক্টরির সিকিউরিটি অফিসের প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ব্যালট গণণা করা হয়। সমস্ত প্রক্রিয়াটি কোভিদ ১৯ অতিমারী পরিস্থিতিতে ফিজিক্যাল ডিসট্যন্সিং মেনে সম্পন্ন হয়। প্রেস বিবৃতিতে সভাপতি জয়দেব দে জানান যে বর্তমানে সারা দেশে করোনা উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা শিল্পের শ্রমিকরা যখন কোভিড-১৯-এর মোকাবিলা করার জন্য যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে প্রতিরক্ষা পণ্যের সাথে সাথে চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি করে নজির সৃষ্টি করে চলেছেন, তখনই কেন্দ্র সরকার তাদের সাথে তঞ্চকতা করল। প্রতিরক্ষা শিল্পকে কর্পোরেটকরণকে এই শিল্পের শ্রমিক কর্মচারিদের সমস্ত ইউনিয়ন ও ফেডারেশন সমস্বরে বিরোধিতা করেছিল এবং গত বছর ২০-২৪ আগষ্ট ২০১৯ ধর্মঘটের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রক থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল যে শ্রমিক কর্মচারিদের সাথে আলাপ আলোচনার মধ্যে দিয়েই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কিন্তু এবছর ১৬ মে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানিয়ে দিলেন যে কর্পোরেটকরণ হবে, এবং শুধু তাই নয়, প্রতিরক্ষা শিল্পে বিদেশী পুঁজির বিনিয়োগ ৪৯% থেকে বাড়িয়ে ৭৪% করা হবে।