গত ৫ এপ্রিল রাত প্রায় ৯টার সময় কিছু সামন্ততান্ত্রিক দুর্বৃত্ত ভোজপুর জেলার তারারি ব্লকের সারা মুসাহার টোলার কৃষ্ণ মুসাহারের বাড়িতে ঢুকে আক্রমণ চালায়। বাড়ির মেয়েদের ধর্ষণ করার উদ্দেশ্যেই ওই দুর্বৃত্তরা বাড়ির ওপর চড়াও হয়, কিন্তু বাড়ির মেয়েরা রুখে দাঁড়ালে ওরা গুলি চালাতে শুরু করে। তাদের চালানো গুলিতে ছ-জন আহত হয়। সিপিআই(এম-এল)-এর বিহার রাজ্য সম্পাদক কমরেড কুনাল এই ঘটনায় তীব্র ধিক্কার জানিয়ে বলেন, করোনা সৃষ্ট সংকটের সময়ও এই দুর্বৃত্তরা জঘন্যতম অপরাধ সংঘটিত করতেও পিছপা হয় না। এই ধরনের অপরাধের সংঘটনকে রুখতে সরকারকেই ব্যবস্থা নিতে হবে।
কমরেড কুনাল পাটনা জেলায় সংঘটিত আর একটি অপরাধের উল্লেখ করে বলেন, এই সব ঘটনা দেখিয়ে দিচ্ছে যে দুর্বৃত্তরা কতটা স্পর্ধিত হয়ে উঠেছে। বিজেপি মদতপুষ্ট সমাজবিরোধী লোকজন পাটনা জেলার পালিগঞ্জ ব্লকের জারখা গ্ৰামের বাসিন্দা সিপিআই(এম-এল) ব্লক কমিটির সদস্য রাজেশ কুমারের লাগাতার হেনস্থা ঘটিয়ে চলেছে। এই দুর্বৃত্তরা গ্ৰামের সামাজিক এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতিকে বিষিয়ে তোলার যে লাগাতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, কমরেড রাজেশ তার ধারাবাহিক বিরোধিতা করে আসছেন। আর সেই কারণেই বিজেপি মদতপুষ্ট এই দুর্বৃত্তরা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ৪ এপ্রিল তাঁর বাড়িতে আক্রমণ চালায়। লকডাউনের ফলে ক্ষতিগ্ৰস্ত পরিযায়ী শ্রমিক ও দরিদ্রদের অবস্থার খোঁজখবর নেওয়ার পর পাটনা জেলারই বিহটা ব্লকের বিষ্ণুপুরা গ্ৰামে ফিরছিলেন সিপিআই(এম-এল)-এর জেলা কমিটি সদস্য গোপাল সিং, কিন্তু এখানেও তাঁর গ্ৰামে ঢোকাকে আটকায় সামন্ততান্ত্রিক শক্তিগুলো। সমাজে বিদ্যমান অস্পৃশ্যতা এবং দলিত ও মুসলিমদের এবং তার সাথে কোভিড-১৯ সংক্রমিত মানুষদের বিরুদ্ধে চালিত বৈষম্যের অভিশাপগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলছে লকডাউন এবং দক্ষিণপন্থী ঘৃণার প্রচার।
সিপিআই(এম-এল) আরও একবার এই দাবিগুলোকে তুলে ধরছে : অপরাধের ক্রমবর্ধমান ঘটনায় রাশ টানতে হবে; সবাইকেই রেশন দিতে হবে এবং কারো বিরুদ্ধে কোনো রকম বৈষম্য করা চলবে না; স্বাস্থ্যকর্মী এবং ত্রাণ বণ্টনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিগণ এবং তার সাথে কোভিড-১৯ সংক্রমিত রোগীদের ওপর কালিমা লেপনের প্রচেষ্টাগুলোকে খর্ব করার ব্যবস্থা নিতে হবে, এবং এই সব প্রশ্নে গৃহীত উদ্যোগে বিরোধী দলগুলোকেও শামিল করতে হবে।
সারা মুসাহার টোলায় গুলি চালনার খবর পেয়ে তারারির সিপিআই(এম-এল) বিধায়ক কমরেড সুদামা প্রসাদ এবং ব্লক সম্পাদক রমেশ সিং ওই গ্ৰাম পরিদর্শন করে সরেজমিনে ঘটনাটির খবর নেন। যাঁরা সেদিনের গুলিচালনায় আহত হয়েছিলেন তাঁরা হলেন:
১। কৃষ্ণ মুসাহার(২৬) – ৭টা গুলি লাগে; ২। রামনাথ মুসাহার(৫০) – ৬টা গুলি লাগে; ৩। অজয় মুসাহার (২৫) – ২টো গুলি লাগে; ৪। বিদেব মুসাহার(২২) – ২টো গুলি লাগে; ৫। ভিকান মুসাহার(১৫) – ??? ৬। আনুসি কুমারি(৬ মাস) – হাতে গুলি লাগে (অজয় মুসাহারের মেয়ে)।
বিদেব মুসাহার ছাড়া অন্য সব আহতদের আক্রমণের দিন রাতে আরা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তারারির সিপিআই(এম-এল) বিধায়ক সুদামা প্রসাদ, সিপিআই(এম-এল)-এর শহর সম্পাদক দিলরাজ প্রীতম এবং চিকিৎসা ব্যাপারে দায়িত্বশীল দীননাথ সিং আরা সদর হাসপাতালে গিয়ে আহতদের সঙ্গে দেখা করেন, এবং ঘটনাটি সম্পর্কে বিশদ খবরাখবর নেন। তার পরই জেলা শাসককে ঘটনাটি সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সিপিআই(এম-এল) এই উদ্যোগ নেওয়ায় আহতদের প্রত্যেকে এক লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ পান।
সুদামা প্রসাদ দাবি জানিয়েছেন, সমস্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্ৰেপ্তার করতে হবে এবং দ্রুত বিচার সম্পন্ন করে তাদের যথাযথ শাস্তি দিতে হবে; আহতদের পর্যাপ্ত ও যথার্থ চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে; লকডাউনের জন্য রেশন পাওয়ার সমস্যা হওয়ায় সমস্ত আহতদের পরিবারগুলো যাতে যথাযথ পুষ্টি ও খাদ্য পায় তার ব্যবস্থা করতে হবে; সমগ্ৰ মুসাহার টোলার জন্য রেশনের ব্যবস্থা করতে হবে।