কোভিড হানা আর লকডাউন চাপানো পরিস্থিতিতে বাড়ছে সংবাদ মাধ্যমের ওপর সরকারী নিয়ন্ত্রণ, নামছে সাংবাদিকদের ওপর হামলা। স্বভাবতই সরকারী বুলেটিনে সচরাচর এ খবর প্রকাশ হতে দেওয়া হচ্ছে না। তবু সেই চাপের মধ্যেও কিছু খবর ফুঁড়ে বেরিয়ে আসছে।
সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে অবিশ্বাস করার তকমা লাগিয়ে দেওয়া হল ‘দেশবিরোধী’ খবর ছেপেছে! ‘অপরাধ’ হল পিটিআই বেজিঙে ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিক্রম মিশ্রীকে উদ্বৃত করে খবর করেছে চীনা সেনাদের প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখার চীনের দিকে ফিরে যাওয়া প্রয়োজন। যেহেতু এই তথ্য সংবাদ সর্বদল বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর পেশ করা বক্তব্যের সম্পূর্ণ বিপরীত অর্থ প্রকাশ করে তাই তা ‘জাতীয়স্বার্থের পরিপন্থী’, অতএব পিটিআই-কে দাগিয়ে দাও! এই কাজটি করানো হল ‘স্বশাসিত’ প্রচারিত ‘প্রসারভারতী’কে দিয়ে। প্রচার আছে পিটিআই নাকি ‘প্রসারভারতী’ পরিপোষিত! অথচ প্রকৃত তথ্য হল, সরকারী সম্প্রচার মাধ্যমে খবরাখবর সরবরাহের বিনিময় মূল্য হিসাবে পিটিআই যা পায় তা তার মোট আয়ের ৬ শতাংশ মাত্র। নতুন যা উৎকটভাবে উন্মোচিত হচ্ছে তা হল ‘প্রসারভারতী’ আজকের মোদী জমানার নেপথ্য কলকাঠিতে নিয়ন্ত্রিত হয়ে চলেছে কি মাত্রায়!
উত্তরপ্রদেশে ‘স্ক্রল’ সংবাদ সংস্থার কার্যকরি সম্পাদক সুপ্রিয়া শর্মার বিরুদ্ধে বিজেপির যোগী আদিত্যনাথ সরকারের পুলিশ এফআইআর করেছে। ‘অপরাধ’ কি! ‘আদর্শগ্রাম’ গড়ে তোলার জন্য প্রধানমন্ত্রীর দত্তক নেওয়া গ্রামবাসীদের অতিমারী পরিস্থিতিতে ক্ষুধা-অনাহারে দিন কেটেছে। এই খবরের সত্যতা প্রমাণ স্বরূপ অডিও রেকর্ড রয়েছে। তা সত্বেও পুলিশী অভিযোগ ও হুমকির সম্মুখীন হতে হয়েছে। দেশের বহু রাজ্যেই এই ঘটনা ও প্রবণতা ঘটে আসছে বহুদিন থেকে। তবে কেন্দ্র-রাজ্যের বিজেপি জমানাতেই নিয়ন্ত্রণের অতিমারের তথ্য সবচেয়ে বেশি, এই অতিমারী অবস্থাতেও সেই অনাচার চলছে সমানে।