“সংবিধানই হচ্ছে আমাদের এগিয়ে চলার আলোকবর্তিকা ... বিশ্বাস, লিঙ্গ, বর্ণ, জাতপাত বা ভাষার ভিত্তিতে আমরা কারুর সঙ্গে বৈষম্যমূলক আচরণ করি না, আর এর উপর দাঁড়িয়েই আমরা ১৩০ কোটি ভারতবাসীর ক্ষমতায়ন করেছি।” — এ বছরের সেরা রসিকতা। হয়তো বা আগামী দিনগুলোতেও।
কথাগুলো বলেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কেরলে যোশেফ মাড় থোমা মেট্রোপলিটন-এর ৯০তম জন্মদিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে এক ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ২৭ জুন এই বার্তা দিয়েছেন। এদিকে, তার ঠিক একদিন আগে, ২৬ জুন, রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই কমিশনার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি মারফত মোদী সরকারকে তুলোধোনা করে। বিবৃতিতে তারা জানায়, “ভারত তার ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে মুসলমানদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।” বিবৃতিতে মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জন ছাত্র, আর ইতিমধ্যেই একজন, সাফুরা (যিনি সন্তান সম্ভবা) অবশেষে দু’মাস পর “মানবিক” কারণে জামিন পেয়েছেন। অভিযোগ করা হয়েছে, “এই সমস্ত গ্রেপ্তারের আসল উদ্দেশ্য হলো হাড় হিম করা এক বার্তা দেওয়া যে, সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সমালোচনা বরদাস্ত করা হবে না।”
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আন্দোলনের ১৩ জন কর্মী প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দিল্লি পুলিশের নির্লজ্জ পক্ষপাতিত্বের উদাহরণ টেনে বলেছেন যে প্রকাশ্যে সিএএ-বিরোধী আন্দোলনের কর্মীদের ওপর গুলি চালানোর হুমকি দেওয়া সত্বেও শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হলো না। এদিকে, বৈষম্যমূলক সিএএ’র বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলার জন্য দিল্লি দাঙ্গায় “উস্কানিমূলক কাজে” জড়িত থাকার মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয় সাফুরা সহ আরও বেশ কয়েকজনকে। কোনো প্রামাণ্য নথি ছাড়াই, স্রেফ প্রকাশ্য সভায় কয়েকটা শান্তিপূর্ণ ভাষণের জন্য মিথ্যা মামলা দায়ের করার জন্য তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে মোদী সরকার। বলাই বাহুল্য, আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে রাষ্ট্র সংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত হাই কমিশনারের এই তীক্ষ্ণ সমালোচনা মোদী সরকারের পক্ষে মোটেই ভাল বিজ্ঞাপন নয়। এবং এই প্রেক্ষাপটে মোদীর উক্তিটি আন্তর্জাতিক স্তরে আরও হাস্যকর হয়ে উঠেছে।